Posted in

পঞ্চতন্ত্র মিত্রভেদ

বক ও বেঁজি

এক বনে ছিল এক বিশাল বটগাছ। তাতে বাস করত একদল বক। তার কোটরে থাকত এক কালকেউটে। রকদের বাচ্চা হলে সে সাবার করে দিত। এ নিয়ে বকদের ভীষণ কষ্ট! কিন্তু কি করবে? সাপের সঙ্গে তারা পারবে কি করে?

গাছের নিচে ছিল একটা পুকুর। একদিন এক বঁক পুকুরপাড়ে বসে চোখের জলে ভাসছে! তা দেখে এক কাঁকড়া এসে বলল: কি মামা! এমন করে কাঁদছ যে!

বক: কি আর করি! কিছুই ভাল লাগছে না!

কাঁকড়া: কেন, কি হয়েছে?

বক: আর বলো না! কোটরস্থ ঐ কেউটে আমাদের সর্বনাশ করে দিচ্ছে! কাঁকড়া: কি হয়েছে খুলে বলো।

বক: আমাদের বাচ্চা হলে ঐ দুর্বৃত্তটা সব খেয়ে ফেলে। এই দেখনা গেলদিন আমাদের তিনটে বাচ্চা ফুটলো, আজ একটিও নেই! কাজেই এখানে আর থাকি কি করে!

কাঁকড়া মনে মনে ভাবল: বক আমাদের জাতশত্রু। এতদিন আমাদের ধরে ধরে গিলেছে। আজ তার প্রতিশোধ নেব। এমন পরামর্শ দেব যাতে বকের বংশ ধ্বংস হয়। কথায় বলেনা—

মুখে মিষ্টি অন্তরে বিষ      এমনিভাবে বুদ্ধি দিস
শত্রু যাতে টের না পায়।
কৌশলেতে করবি কাজ      হয়তো কাল কিংবা আজ
সমূলে সব মারা যায়।

এই ভেবে সে প্রকাশ্যে বলল: মামা, এ আর এমন কি? তুমিতো জান—সাপে আর বেঁজিতে চিরশত্রুতা। তাই বেঁজির গর্ত থেকে সাপের গর্ত পর্যন্ত ছোটছোট মাছ ছড়িয়ে দাও। ঐ মাছ খেতে গিয়ে বেঁজি সাপটাকে মেরে ফেলবে। ব্যাস! তোমরাও বেঁচে যাবে।

কাঁকড়ার পরামর্শ বকের পছন্দ হলো। সে সবাইকে ডেকে তা-ই করল। বেঁজিও ঠিকই সাপটাকে মারল। কিন্তু বকদের বাসায় বাকি যে শাবকগুলো ছিল, একে একে সেগুলোও সাবাড় করল। তাই বলছিলুম—পাপবুদ্ধি অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতের উপায় খুঁজতে গিয়ে তার অপায় অর্থাৎ খারাপ দিকটি চিন্তা করেনি।

এসব উপদেশের পরে করটক দমনককে বলল: ওরে মূর্খ! তোর মাথাও ঐ পাপবুদ্ধির মতোই। উপায় খুঁজতে গিয়ে তার অপায় চিন্তা করিস না। পাপকাজেই কেবল বুদ্ধি খেলে, ভালকাজে নয়। তোকে আমি ভাল করে চিনেছি। হুজুর তোকে বিশ্বাস করে চাকরিতে পুনর্বহাল করেছিলেন। কিন্তু তুই তাঁর জীবন বিপন্ন করে নিজেই দেখিয়ে দিলি তুই কতবড় কুটিল, শয়তান, বিশ্বাসঘাতক এবং বোকা! দেখ—ময়ূর দেখতে কত সুন্দর! তার সর্বাঙ্গে কি মনোহর রূপ! কিন্তু সেই বোকা যদি মেঘের ডাকে মহানন্দে পেখম তুলে না নাচত, তাহলে তার খারাপ দিকটা (মলদ্বার) কি কেউ দেখতে পেত? ঐ বোকা ময়ূরের মতো তুইও নিজের স্বরূপ প্রকাশ করে দিলি। তুই হুজুরেরই যখন এতবড় সর্বনাশ করতে পারলি, তখন আমাদের আর কথা কি? কাজেই তোর সঙ্গে বাস করা নিরাপদ নয়। তুই চলে যা এখান থেকে। আমার ধারে-কাছে আর আসবি না। দেখ, বিশ্বাসঘাতক আর মিথ্যেবাদী এদের কখনো উন্নতি হয়না। তাইতো বলেছে ভাল—

লোহার তৈরি তুলা যদি ইঁদুরে সব খেতে পারে।
শ্রেষ্ঠিপুত্র বাজে নেবে তাহাতে আর সন্দ কি-রে।।

দমনক বলল: সে আবার কি?

করটক: শোন তাহলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *